হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৬, ২০২৬

“শেখ হাসিনার গায়ে গুলি লাগার আগে ভেদ করতে হবে রক্তে গড়া ভাইদের দেয়াল”

By অমি রহমান পিয়াল

IMG_5743

‘৮১ সালের ১৭ মে ছয় বছরের প্রবাস (পড়ুন নির্বাসন) থেকে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর যেসব শ্লোগান শুনেছিলেন, তার একটি ছিলো ‘হাসিনা তোমার ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই’। শ্লোগানকে শ্লোগান হিসেবে নেওয়াই দস্তুর। নেতানেত্রীরা তাই নেন। কারণ রাজনৈতিক শ্লোগানে ছেলেও বাবাকে ভাই ডাকে।

সাত বছর পর শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই বিস্ময়ভরে আবিষ্কার করেছিলেন, কথাগুলো নেহাতই কথার কথা ছিলো না। 

 ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। লালদিঘির ময়দানে সেদিন আওয়ামী লীগের জনসভা ছিলো। শেখ হাসিনার ওপর সেদিন নির্বিচার গুলি ছুড়েছিলো এরশাদ সরকারের পুলিশ ও সাদা পোষাকধারীরা। কিন্তু গুলি তাকে ছোঁয়নি। দেয়ালে বিধেছে। মানুষের সে দেয়াল থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়েছে। হাসিনার ভাইদের দেয়াল।  

মাথায় গুলি খেয়ে সীতাকুন্ড কলেজের জিএস যখন উল্টে পড়েছেন, তার জায়গা নিয়েছেন একজন শ্রমিক নেতা। রক্তাক্ত সে দেয়ালের নিরেট দূর্ভেদ্যতা অটুট ছিলো। একটা ইট খসে গেলে সেখানে বসেছে আরেকটি ইট। শেখ হাসিনা নিরাপদ ছিলেন। 

সেদিন আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল ছিলো রণক্ষেত্র- জান দেবো, লাশ দেবো না। রাত বারোটা পর্যন্ত চলেছে থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের বিরুদ্ধে ইট পাটকেলের লড়াই। 

১৬ বছর পর, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আবার ভাইদের কাছে ঋণী হয়েছেন হাসিনা। এদিনকার হামলা আরো ভয়ানক ছিলো। গুলির পাশাপাশি ছিলো আর্জেস গ্রেনেড। তুমুল বিস্ফোরণেও হাসিনার ভাইয়েরা ভুলে যায়নি তাদের প্রতিজ্ঞা। শরীরে অজস্র স্প্লিন্টার আর বুলেটের গর্ত নিয়েও দাঁড়িয়ে গেছে মানব দেওয়াল। মৃত্যু দিয়ে বোনের নিশ্চিত মৃত্যুকে ফিরিয়েছেন তারা।

স্বীকৃতির পরোয়া করে না এসব মৃত্যু। আত্মাহুতির বিনিময়ে প্রতিদান চায় না। আক্রমণ থেমে থাকবে না। আরো হবে। হুমকি আসে জনসভা থেকে। জাতির জনকের মৃত্যুদিনে বিশাল কেক কেটে আনন্দ উদযাপন করিয়েরা হুমকি দেয় আবারও। শেখ পরিবারকে নির্বংশ করার সেই মিশন থেকে তারা সরবে না। 

বোকা এই খুনীগুলো, তাদের মুখপাত্রগুলো ভুলে যায় সেই ভাইদের কথা। হাসিনার বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পর্যন্ত যাওয়ার আগে কতগুলো শরীর ভেদ করতে হবে তাদের ছোঁড়া গুলিকে।  

এত বুলেট কোথায় পাবি তোরা! 

তাদের পারুল বোনটির জন্য সাত ভাই চম্পারা যে শত শত, হাজার হাজার, লাখ লাখ হয়ে যায়... 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু