ব্যাংক খাতে ভয়াবহ ঝুঁকি: প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ
By নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ জুন, ২০২৬
দেশের আর্থিক খাতের জন্য উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের সর্বশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের চেয়েও বড় অংক।
রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং অবলোপন করা ঋণ অন্তর্ভুক্ত।
মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ: ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।
এক বছরে বৃদ্ধি: গত এক বছরে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র: গত ডিসেম্বরের পর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রভিশন ঘাটতি: বিপুল পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে গিয়ে ব্যাংক খাত বড় সংকটে পড়েছে। ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রভিশন ঘাটতি নিয়ে চলছে ব্যাংকগুলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।
এর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে করপোরেট ও বৃহৎ ঋণ। এদিকে, আদালতের আদেশে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না, যা প্রকৃত চিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা সূচক ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে দেশের ব্যাংক খাত। এই পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।