এলএনজি টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব: আরও দুই সপ্তাহ গ্যাস সংকট, ভোগান্তিতে সারা দেশ
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা | ৩০ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকট আরও অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন খাতে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার চুলায় গ্যাস মিলছে না।
আবাসিক গ্রাহকরা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কাও বেড়েছে।
চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস থাকে না। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না, ফলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও কমে এসেছে।
গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সময়মতো পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি টার্মিনাল গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এতে টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, বর্তমানে বিদেশি ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মেরামত কাজ চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশ থেকে সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে।
চট্টগ্রামে গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বলছে, পুরো অঞ্চলই এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে।
টার্মিনাল সচল হওয়ার পর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।এদিকে সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ততদিন পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতকে সীমিত গ্যাস সরবরাহের মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।