হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৩০, ২০২৬

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্লাইমেট প্রজেকশন ও আধুনিক জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস চালু করল আবহাওয়া অধিদপ্তর

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক

IMG_8537

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ (Climate Projection) তথ্য এবং একটি আধুনিক জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) পূর্বাভাস মডেল চালু করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম।

জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত “Strengthening the Capacity of Weather and Climate Services” শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের (TAPP) আওতায় জুলাই মাসজুড়ে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (JMA) মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (MRI) বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা এবং ড. নাদাও কোহ্নো বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পূর্বাভাস প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় জানানো হয়, ভবিষ্যতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, গতিপ্রকৃতি এবং প্লাবিত হওয়ার সম্ভাব্য এলাকার আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।

পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতার দৈনিক পূর্বাভাসও আগের তুলনায় আরও নির্ভুলভাবে প্রদান করা যাবে বলে জানানো হয়।

  • বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এর পূর্বাভাস নিয়মিতভাবে বিএমডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।
  • এ উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) “Early Warnings for All (EW4All)” বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড,
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
  • প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন,
  • আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আবহাওয়া ও দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে চরম আবহাওয়ার ঘটনা, আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ তথ্য ও আধুনিক জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস ব্যবস্থা দুর্যোগের আগাম সতর্কতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর মাধ্যমে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষকে দ্রুত সতর্ক করা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণেও এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।