হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৯, ২০২৬

বন্যার্ত মানুষের পাশে আবারও ছাত্রলীগ, ত্রাণ-উদ্ধারে মাঠে নামার কেন্দ্রীয় নির্দেশচট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা জোরদার; ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতার আহ্বান

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস

IMG_8056

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ আহ্বান জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় অসংখ্য মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেসব পরীক্ষার্থী বন্যার কারণে যাতায়াত, শিক্ষা উপকরণ বা অন্যান্য সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো, শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার ঐতিহ্য

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতীয় সংকট কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য নজির রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সময়ের ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, অগ্নিকাণ্ড ও শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং পুনর্বাসনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন।

বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন সারাদেশ স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। পাশাপাশি মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত ও প্লাজমা সংগ্রহ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সমন্বয় এবং করোনা আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের দাফন-সৎকারে সহায়তার মতো বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

এছাড়া করোনা মহামারির সময় শ্রমিক সংকটের কারণে যখন দেশের অনেক কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন ছাত্রলীগের হাজারো নেতা-কর্মী কৃষকের জমিতে নেমে ধান কেটে, মাড়াই করে এবং ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজে অংশ নেন।

দেশের বিভিন্ন জেলার অসহায় ও প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটির এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং কৃষকের দুর্দিনে মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।একইভাবে অতীতের বিভিন্ন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও ছাত্রলীগ দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শিশু খাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

সংগঠনটির নেতারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমও ছাত্রলীগের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্ব।

মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান

কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, দুর্যোগের এই সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া

পরিবারের প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, অনেক সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এই নির্দেশনাকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সংগঠনটির প্রত্যাশা, সারাদেশের নেতা-কর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে অতীতের মতো এবারও দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।