হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২, ২০২৬

রিজার্ভ চুরি মামলা: ৯৬তম বারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন, নতুন তারিখ ৯ আগস্ট

By নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস

IMG_7720

বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে।

এ নিয়ে ৯৬তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হলো, যা দীর্ঘ এক দশকেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেনি।

এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে আগামী ৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক দশকেও শেষ হয়নি তদন্ত

২০১৬ সালে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত প্রায় এক দশক অতিক্রম করলেও এখনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবারই তদন্ত শেষ না হওয়ায় সময়ের আবেদন করে আসছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

ফলে একের পর এক তারিখ পিছিয়ে বর্তমানে তা ৯৬ বারে পৌঁছেছে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের অন্যতম আলোচিত এই আর্থিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত তদন্ত পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থনীতি বিশ্লেষক, আইনজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কী ঘটেছিল ২০১৬ সালের সেই ঘটনায়

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সাইবার হামলার

মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা SWIFT-এ অনুপ্রবেশ করে একাধিক ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠায়।

মোট প্রায় ৯৫ কোটি ডলার স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ লেনদেন আটকে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তুলে নেওয়া সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক তদন্তে উঠে আসে, চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো খাতে চলে যায়, যার কারণে পুরো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশে ফেরত আসে।

দেশের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার সন্দেহরিজার্ভ চুরির ঘটনায় শুরু থেকেই ধারণা করা হয়, শুধুমাত্র বিদেশি হ্যাকারদের পক্ষে এত বড় সাইবার জালিয়াতি সংঘটন করা সম্ভব ছিল না। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের অভ্যন্তরে থাকা কোনো চক্রের সহযোগিতার বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়নি।  যেভাবে শুরু হয় মামলা, ঘটনার পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা রাজধানীর মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।এর পরদিন ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ওপর ন্যস্ত করেন। সেই থেকে সংস্থাটি মামলার তদন্ত করে আসছে।বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নপ্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা, পাশাপাশি চুরি হওয়া অর্থের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে কার্যকর অগ্রগতি দেখতে চান সংশ্লিষ্ট মহল। সর্বশেষ আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।