চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত
By নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ১১ জুলাই ২০২৬
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জরুরি ত্রাণ এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও সমন্বয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
সেনাসদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শিশু খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।বন্যার কারণে অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গম ও পানিবন্দী এলাকায় পৌঁছে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। কোথাও নৌযান ব্যবহার করে, আবার কোথাও বিকল্প পথ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। এসব ক্যাম্পে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর সরবরাহ করা বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা দুর্গত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দুর্যোগের শুরু থেকেই সেনাবাহিনী দ্রুত মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা দুর্গত পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখা হবে। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব হবে।