হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৩, ২০২৬

ব্যাংককের জনপ্রিয় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৭, ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু; ৬০ জনের বেশি হাসপাতালে, নিখোঁজ আরও কয়েকজন।

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস

IMG_8124

ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৬০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এখনও কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে আটকা পড়েন বহু মানুষ।থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এখন পর্যন্ত ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারের মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়।

এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

আতঙ্কিত মানুষ প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকে ধোঁয়া ও আগুনের কারণে আটকা পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ভেতর থেকে আগুনের বিশাল শিখা বের হচ্ছে এবং আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন।

অনেককে চিৎকার করতে এবং কয়েকজনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী রয়েছেন। আহতদের অনেকেই গুরুতর দগ্ধ এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিল্পী, যিনি আগুন লাগার সময় মঞ্চে গান পরিবেশন, প্রাথমিকভাবে ধারণা দিয়েছেন যে একটি বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, অনেক মানুষ মূল দরজা দিয়ে বের হতে না পেরে ভবনের পেছনের দিকে এবং টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়ভাবে ‘রয় বিয়ার না লাট ফ্রাও’ নামে পরিচিত বারটি চাতুচাক এলাকার একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্র।

অগ্নিকাণ্ডের পর তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ভবনের ভেতরের আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। ভবনের বাইরে সারিবদ্ধভাবে মরদেহের ব্যাগ রাখা হয় এবং পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

ব্যাংককের গভর্নর চাটচার্ট সিত্তিপুন্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, বারের ভেতরের দাহ্য সাজসজ্জার সামগ্রী আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে জরুরি নির্গমন পথের সামনে বিভিন্ন স্টল ও সামগ্রী রাখা ছিল, যা দ্রুত বেরিয়ে আসার পথ বাধাগ্রস্ত করেছিল।

তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।ব্যাংকক ডিজাস্টার ডিপার্টমেন্টের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিয়ান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু আগুনে পুড়ে নয়, বরং ঘন ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে হয়েছে।

তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক জানান, আগুন দেখতে পেয়ে তিনি নিজের শার্ট দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং অন্তত পাঁচজনকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়া দুইজনকে উদ্ধার করেন।অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে থাই কর্তৃপক্ষ।