ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ
By বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া সব ধরনের বেতন ও ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
কেন বাতিল হলো এই নিয়োগ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত বিএমইউর ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সভায় অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম
আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।আদেশে স্পষ্ট করা হয় যে, একই সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাদেশ সংশোধন করে আবার সেই সংশোধনের সুবিধা নিয়ে কাউকে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।
এই প্রক্রিয়াটি আইনগতভাবে বৈধ না হওয়ায় ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভার সেই নিয়োগটি বাতিল ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তাঁর নেওয়া সমস্ত বেতন-ভাতা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।'এটি নীতিবহির্ভূত': ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চিকিৎসা পেশায় এবং প্রায় সমসাময়িক সময় ধরে চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত আছি। আমি সবসময় মনপ্রাণ দিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি।
আমার লেখা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বই দেশ ও বিদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে যে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়েছিল, তা আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। এর বাইরেও আমি বহু সম্মান ও সম্মাননা পেয়েছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবে হঠাৎ এটি বাতিল করল, সেটি নীতিবহির্ভূত ও দুঃখজনক।
আমি আশা করি, এই সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না।’