হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১, ২০২৬

সংকটের মাঝেও উচ্চাভিলাষী মহাবাজেট: বড় চ্যালেঞ্জ সুশাসন ও কর্মসংস্থান।

By নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১ জুন ২০২৬

0665f200-c0b4-4fa0-aca1-a88d6e861ca7

অর্থনীতির ওপর একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—এমন এক বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত এ বাজেটকে ইতোমধ্যে ‘মহাবাজেট’ হিসেবে অভিহিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাজেটের আকার যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ। কারণ বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় এবং ঘাটতি পূরণ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ে বড় বরাদ্দ

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বড়।

এই বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভর্তুকি এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায়ও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, কিন্তু বাস্তবতা কতটা সহায়ক?

সরকারের লক্ষ্য প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করা। এর বড় অংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পরিচালিত কর খাত থেকে।

কিন্তু অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্থর গতি, আমদানি-রপ্তানিতে চাপ এবং কর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফলে রাজস্ব ও ব্যয়ের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হবে, তা পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

ঋণনির্ভরতা কি নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে?

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে ঘাটতি অর্থায়ন। বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করা হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে নতুন শিল্প বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই বাজেট কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই হবে মূল বিষয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসনের অভাব থাকলে উন্নয়ন ব্যয়ের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না এবং ঋণের বোঝাও ক্রমশ বাড়তে থাকবে।

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে নজর দেওয়ার তাগিদ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করাকে বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। তরুণদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।

সবার নজর ১১ জুনের বাজেটে

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের কথা 

রয়েছে। বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কীভাবে সরকার বিশাল এই ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে এবং একই সঙ্গে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে।

অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে তাই শুধু বাজেটের আকার নয়, বরং তার বাস্তবায়ন সক্ষমতা, সুশাসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলাফলই হবে আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র।