বগুড়ায় খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি অর্থ লোপাটের মহোৎসব
By নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ১৪ জুন, ২০২৬
বগুড়ায় কৃষি উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে হাতে নেওয়া খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে নামমাত্র মাটি খনন করায় সাধারণ মানুষের উপকারের বদলে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকির অভাবে সরকারি অর্থের হরিলুট চলছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালের গভীরতা ও প্রস্থ সিডিউলের শর্ত অনুযায়ী করা হয়নি। নামমাত্র কিছু মাটি সরিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া, খালের দুপাশে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রেও চরম অবহেলা পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে আসা মাটিতে খাল পুনরায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা আশপাশের ফসলি জমির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
থানীয় কৃষকদের ক্ষোভ, খাল খননের নামে মূলত সরকারি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রান্তিক কৃষক জানান, “আমরা ভেবেছিলাম খাল খননের ফলে চাষাবাদে সুবিধা হবে। কিন্তু ঠিকাদাররা কেবল রাস্তার ধারের দৃশ্যমান কিছু অংশে কাজ সেরেছে, খালের ভেতরের অবস্থা প্রায় অপরিবর্তিত। এই দায়সারা কাজের ফলে বৃষ্টি হলেই এখন আমাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। অন্যদিকে, মাঠ পর্যায়ের কাজের সঙ্গে সিডিউলের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ‘কাজ বুঝে নেওয়ার’ আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই প্রকল্পে প্রতিটি ধাপে কারিগরি ও আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, সরকারি এই মহৎ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে হলে ত্রুটিপূর্ণ কাজ বাতিল করে নকশা অনুযায়ী পুনর্খনন নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার শিকার হবে বগুড়ার সাধারণ মানুষ।