হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১৮, ২০২৬

এআইকে ‘চাকরিখেকো’ ভাবার কারণ নেই: নতুন স্টার্টআপ নিয়ে মাঠে নামছেন জেফ বেজোস,

By ​প্রযুক্তি প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬

27dbf926-0c0e-4e6f-8b03-487ab507f412

​বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই এর বিপরীত এক আশার বাণী শোনালেন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তাঁর মতে, এআই-কে ‘চাকরিখেকো’ ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রযুক্তি বিশ্ব অর্থনীতিতে বেকারত্ব বাড়াবে না; বরং শ্রমশক্তির নতুন চাহিদা ও লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে।  

​তরুণদের এই চাকরি হারানোর উদ্বেগকে সম্পূর্ণ ‘বাস্তবতার বিপরীত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বেজোস।

​৪১ বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ ‘প্রমিথিউস’​কেবল মুখে আশার বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত হননি বেজোস,

এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি নিজেই ‘প্রমিথিউস’ (Prometheus) নামে একটি নতুন এআই স্টার্টআপ চালু করেছেন। শুরুতেই বাজিমাত করা এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বাজার মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ৪১ বিলিয়ন ডলারে।

এবং গোল্ডম্যান স্যাকস থেকে প্রমিথিউস ১২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। গুগলের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী ভিক বাজাজকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রধান নির্বাহী (Co-CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেজোস নিজেই। 

​প্রমিথিউসের মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার’ তৈরি করা, যা জেট ইঞ্জিন বা মহাকাশযানের মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল পণ্যের নকশা তৈরিতে প্রকৌশলীদের সরাসরি সহায়তা করবে। এ প্রসঙ্গে জেফ বেজোস বলেন:  ​"সমাজের সম্পদ সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তি হলো নতুন নতুন উদ্ভাবন।

প্রমিথিউস মানব সভ্যতার সেই উদ্ভাবনের গতিকে অনেক বেশি দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী করবে।"  

​বেলচা বনাম বুলডোজার থিওরি​বেজোসের যুক্তি অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজে মানুষের জনবল ১০ গুণ কমেও যায়, তবে উদ্ভাবনের খরচ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে ১০ গুণেরও বেশি নতুন বাণিজ্যিক সুযোগের সৃষ্টি হবে। প্রযুক্তিকে মানুষের চিরকালের সহকারী উল্লেখ করে তিনি একটি চমৎকার উদাহরণ দেন। 

বেজোস বলেন, "মাটি কাটার জন্য বেলচার বদলে কেউ যদি আপনার হাতে একটি আধুনিক ‘বুলডোজার’ তুলে দেয়, তবে আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং খুশি হওয়া উচিত।" তাঁর মতে, এআই হলো মানুষের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সেই বুলডোজার।  

​মুদ্রার ওপিঠ: বিলুপ্ত হচ্ছে হাজারো চাকরি​জেফ বেজোস দীর্ঘমেয়াদী সুফলের কথা বলে আশ্বস্ত করলেও, বর্তমানে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক আঘাতের বাস্তব চিত্রটিও কিন্তু উপেক্ষা করার মতো নয়।

আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তির আগ্রাসনের কারণে ২১,৪৯০টি প্রচলিত চাকরি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।  ​প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেফ বেজোসের স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তবে সাময়িকভাবে কিছু ক্ষেত্রে ছাঁটাই হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব আইটি বাজারে এমন কিছু নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যা বর্তমানের কর্মসংস্থান সংকটকে পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।