নিজস্ব ও সন্তানদের নামে ইউনিয়নের নামকরনের পর এবার নিজের নামে স্কুল, বিতর্কে আবারও প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম!
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
ঢাকা: ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহে আলম। এর আগে নিজের বংশ এবং সন্তানদের নামে একাধিক ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই বিতর্কের তালিকায় নতুন সংযোজন—সরেজমিনে নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। আদেশ অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে 'শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' করার একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে ব্যক্তিগত ও বংশীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের এই প্রবণতা সচেতন মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত ইগো ও নিজের নামকে ইতিহাস বা শিক্ষাঙ্গনে স্থায়ী করার এমন মরিয়া প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য কী?
বিতর্কের মূলে কী?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৯২.৪৪.০০০৩.২৫.১৮ অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে আসার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের দাবি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুগের পর যুগ যে নামে পরিচিত, সেই ঐতিহ্যকে মুছে ফেলে ক্ষমতার প্রভাবে নিজের নাম যুক্ত করা চরম ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ।
এর আগেও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তার পরিবার ও বংশের নামে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণের অভিযোগ রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের নামে এই কি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং? দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কি তবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে?
সচেতন মহলের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের মন্দির। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম ব্যবহারের আগে তার দীর্ঘদিনের সমাজসেবা বা বিশেষ অবদান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের নাম বা নিজের স্বজনদের নামে নামকরণের এই রীতি একটি অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয়। এটি কেবল নৈতিকতাবিরোধীই নয়, বরং তা স্থানীয় জনগণের আবেগের প্রতিও অশ্রদ্ধা।
বগুড়ার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিবগঞ্জের মানুষ যেখানে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বা নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রত্যাশা করে, সেখানে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিমন্ত্রীর সস্তা জনপ্রিয়তার লিপ্সাই ফুটে উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এই অফিস আদেশের বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত নাম স্থাপনের এমন অপপ্রয়াস দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।