হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৭, ২০২৬

ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন: একটি মানচিত্রের প্রাণ ফিরে পাওয়ার দিন।

By সম্পাদকীয় প্রবন্ধ

IMG_5843

১৭ ই মে, ২০২৬ ঢাকা , বাংলাদেশ । 

ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন: একটি মানচিত্রের প্রাণ ফিরে পাওয়ার দিন।

"ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে।"​ সেদিন বাংলার রাজপথ প্রকম্পিত ছিলো  শ্লোগানে, শ্লোগানে।  এটি কেবল একটি তারিখ নয়,এটি ছিল এক শতাব্দীর সবচেয়ে অন্ধকার চাদর ফুঁড়ে বের হওয়া এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের গল্প। এটি ছিল এক নিঃস্ব,

রিক্ত কন্যার স্বদেশের মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে একটি গোটা জাতির অবরুদ্ধ ভাগ্যলিপি নতুন করে লেখার মহাকাব্য।

যে ১৭ মে বিকেলে চারপাশ কাঁপিয়ে বৃষ্টি নেমেছিল ঢাকার আকাশে, প্রকৃতি যেন সেদিন পঁচাত্তরের সেই কালরাতের জমে থাকা কান্না ধুয়ে দিতে চেয়েছিল। ছয়টি দীর্ঘ বছর নির্বাসনে কাটানো সেই চেনা চিবুক, সেই চেনা শাড়ির আঁচল যখন বাংলার মাটিতে স্পর্শ করল, তখন থমকে যাওয়া ইতিহাস আবার সচল হয়েছিল। তিনি যেদিন এসেছিলেন, সেদিন তাঁর আপন বলতে কেউ ছিল না।ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই রক্তাক্ত সিঁড়িতে প্রবেশাধিকারটুকুও মেলেনি।

কিন্তু কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে জমা হওয়া লক্ষ মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার সেদিন জানান দিয়েছিল—যাঁর কেউ নেই, তাঁর জন্য পুরো বাংলাদেশ অপেক্ষার প্রহর গুনছে।​সেই ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা ছিল না, সেটি ছিল বাঙালির ধূসর হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর ঘরে ফেরার দিন। দীর্ঘ সামরিক স্বৈরাচারের বুটের তলায় পিষ্ট হওয়া গণতন্ত্রের বন্দিশালা ভাঙার দিন। 

তিনি এসে কেবল ভাঙা দল গোছাননি, তিনি এসে বাংলার মানুষের গৌরব আর মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে এনেছিলেন। যে খুনিরা ভেবেছিল পঁচাত্তরে ইতিহাস থমকে গেছে, এই একটি প্রত্যাবর্তন তাদের সব অহংকারকে চূর্ণ করে দিয়েছিল। তিনি সেদিন নিজের ব্যক্তিগত শোককে পাথর বানিয়ে, সেই পাথর দিয়ে এই দেশের আত্মবিশ্বাসের মজবুত ভিত্তি গড়েছিলেন।

আজকের এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ—যেখানে গ্রামের কুঁড়েঘর থেকে আলো ঠিকরে পড়ে, যেখানে প্রমত্তা পদ্মার বুকে দৃশ্যমান বাঙালির স্পর্ধা, যেখানে শহরের আকাশ ছুঁয়ে ছুটে চলে মেট্রোরেল—তার মূল বীজটি বোনা হয়েছিল সেই মে মাসের বিকেলে। উন্নয়ন কেবল পিচঢালা পথ বা কংক্রিটের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে না; উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকে সেই অবিচল সাহসের ওপর, যা বিশ্বব্যাংকের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু গড়ে তোলার জেদ দেখায়। আর এই জেদের নামই শেখ হাসিনা।

ইতিহাসের পথ বড়ই নির্মম। যিনি একটি দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা থেকে মুক্ত করে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করলেন, তাঁকেই জীবনের প্রতিটি বাঁকে বুলেট, গ্রেনেড আর চক্রান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে কত শত মরণফাঁদ পাতা হয়েছে তাঁর পথ রুখে দিতে! কিন্তু যার মাথায় কোটি মানুষের দোয়া আর হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ঢাল থাকে, তাকে কোনো ষড়যন্ত্র দিয়ে দমানো যায় না। আজ শত অপপ্রচারের কুয়াশা ভেদ করে তাঁর কর্মের আলো প্রতিটি নাগরিকের জীবন ছুঁয়ে যাচ্ছে।

১৭ মে তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়, এটি বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর  স্মারক। এটি এমন এক আলোকবর্তিকার গল্প, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলার মানুষের ঠোঁটে হাসি ফুটিয়েছেন।

যতদিন এই বাংলায় লাল-সবুজের পতাকা সগৌরবে উড়বে, যতদিন পদ্মা-মেঘনা-

যমুনার জল বঙ্গোপসাগরের পানে ছুটে যাবে, ততদিন ১৭ মে বেঁচে থাকবে বাঙালির 

চিরন্তন বাতিঘর হিসেবে। এই দিনটি মনে করিয়ে দেবে,সবুজ এই মানচিত্র কখনো 

হারতে জানে না, কারণ এই মাটির অতন্দ্র প্রহরীর নাম শেখ হাসিনা।