হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৮, ২০২৬

লাদাখে ভারতের প্রথম ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাইলফলক: পুগা ভ্যালিতে গভীর কূপের উদ্বোধন

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস,আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৮ জুলাই ২০২৬

IMG_8293

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। লাদাখের পুগা ভ্যালিতে দেশের প্রথম এবং গভীরতম ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কূপ খনন ও তা চালু করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভারতের নিজস্ব শক্তির উৎস হিসেবে ভূ-তাপীয় শক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।

প্রকল্পের গুরুত্ব:

অনজিসি এনার্জি সেন্টারের (ONGC Energy Centre) তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই কূপগুলো প্রায় ১,০০০ মিটার গভীর। এই বিশেষ কূপগুলো থেকে মাটির গভীরের প্রাকৃতিক তাপ সংগ্রহ করা হবে, যা পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে। লাদাখকে একটি 'ক্লিন এনার্জি হাব' বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির কেন্দ্রে রূপান্তর করার সরকারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা রয়েছে, এই ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সবুজ শক্তির নতুন দিগন্ত:

বর্তমানে লাদাখের মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জ্বালানির জন্য বাইরের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। পুগা ভ্যালির এই প্রকল্পটি সফল হলে লাদাখ কেবল নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা পূরণেই সক্ষম হবে না, বরং সারা দেশের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন এক উদাহরণ হয়ে উঠবে। ভূ-তাপীয় শক্তি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম, যা সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।

লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বক্তব্য :

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা বলেন, "এই প্রকল্প কেবল লাদাখের উন্নয়নের প্রতীক নয়, এটি ভারতের সবুজ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। ভূ-তাপীয় শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।"বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে ভূ-তাপীয় শক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পুগা ভ্যালির এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পথ প্রশস্ত হবে।

পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।