পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে পাবে সূর্যালোক: আজ এক বিরল মহাজাগতিক মুহূর্ত
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
ঢাকা: আজ এক বিরল ও অভূতপূর্ব মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিট) পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যালোক বা গোধূলির আলোর উপস্থিতিতে থাকবে।
পৃথিবীর অক্ষের কৌণিক অবস্থান এবং গ্রীষ্মকালীন অবস্থানের কারণে এই বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ বড় একটি অংশ সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত থাকবে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ মানুষ এ সময় গভীর অন্ধকারে থাকবে।
বিশ্বজুড়ে আলোর বিন্যাস
বিজ্ঞানীদের মতে, এই মহাজাগতিক মুহূর্তে বিশ্বের আলোর বণ্টন হবে নিম্নরূপ:
পূর্ণ দিনের আলো: বিশ্বের প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ সরাসরি সূর্যের আলো পাবেন।
সিভিল টোয়াইলাইট (উজ্জ্বল গোধূলি): প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো কৃত্রিম আলো ছাড়াই স্বাভাবিক কাজকর্ম করার মতো গোধূলির আলো পাবেন।
অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট: প্রায় ৭৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ গোধূলির মৃদু আভা অনুভব করবেন।
সম্পূর্ণ অন্ধকার: বিশ্বের মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ১%) এই সময়ে রাতের অন্ধকারে থাকবেন।
মূলত উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল এই আলোর আওতায় থাকবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ এই সময় অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে।
২১ জুনের পরিবর্তে ৮ জুলাই কেন?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বছরের দীর্ঘতম দিন ২১ জুন বা কর্কটসংক্রান্তির সময় কেন এমনটা হয় না? বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন,
সূর্য যখন জুন সলস্টাইস বা কর্কটসংক্রান্তির পর কিছুটা দক্ষিণ দিকে সরে আসে, তখন উত্তর মেরুর জনহীন অঞ্চলে সূর্যালোকের বিস্তার কমে যায়। কিন্তু একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে আলোর উপস্থিতি বাড়ে।
সূর্যের এই সামান্য অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে ৮ জুলাই তারিখটি পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষের জন্য সূর্যালোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অনুকূল মুহূর্ত হয়ে ওঠে।গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
প্রতি বছর ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন ধরে প্রতিদিন এমন একটি সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত আসে যখন বিশ্বের প্রায় সব মানুষ একসাথে দিনের আলো বা গোধূলির আভাস পায়। তবে ৮ জুলাই তারিখটি এই মহাজাগতিক বিস্ময়ের প্রতীক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।মহাকাশ বিজ্ঞানের এই বিরল মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে আলোক ও প্রাণের স্পন্দনকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।প্রতিবেদনটি কি আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে? কোনো বিশেষ অংশ পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে চাইলে জানাতে পারেন।