হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২, ২০২৬

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ৩১১ সদস্য পলাতক, আত্মগোপনে হিযবুত তাহ্‌রীরের আরও ৫৯: এটিইউ

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬

IMG_7738

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের অন্তত ৩১১ সদস্য বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের আরও ৫৯ সদস্য বিভিন্ন মামলায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার প্রথম আলোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এটিইউর গত এপ্রিল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এটিইউর তথ্য অনুযায়ী, পলাতকদের মধ্যে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ১৮৫ জন, আনসার আল ইসলাম-এর ৮৩ জন, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি-বি)-এর ১৬ জন, নব্য জেএমবি-এর ১৬ জন,

আল্লাহর দল-এর ৯ জন, জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ১ জন এবং ইমাম মাহমুদের কাফেলা-এর ১ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীর-এর ৫৯ জন বিভিন্ন মামলায় পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব ব্যক্তি উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলার আসামি। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে উগ্রবাদী তৎপরতার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৯ জন বন্দি পালিয়ে যান।

তাদের অবস্থান ও তৎপরতা নিয়েও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।এটিইউর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ১৬টি কারাগারে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ৫৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ৪৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং ২৫ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন।

এছাড়া আরও ৩২ জন কারাবন্দির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে পলাতক ও জামিনে মুক্ত উগ্রপন্থিদের ওপর নজরদারি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ করে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া, জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে থাকা এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক এবং বিদেশি নাগরিক হত্যার মতো একাধিক আলোচিত ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা এবং ২০০৫ সালে জেএমবির দেশব্যাপী ৬৩ জেলায় একযোগে প্রায় ৫০০ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিবাদ দমনে ধারাবাহিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় অব্যাহত রাখা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।