হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২৯, ২০২৬

১৫ দিনে ২ কোটি ভিউ! নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলেছে সানি-অক্ষয়ের ‘ইক্কা’, কিন্তু প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পেরেছে?

By বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস

a0dc45a4-a8c7-4800-b0ad-d09c148bbf0c

ঢাকা: প্রায় তিন দশক পর বলিউডের দুই শক্তিশালী অভিনেতা সানি দেওল ও অক্ষয় খান্নাকে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরিয়ে বড় চমক দিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। গত ১০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া কোর্টরুম থ্রিলার ‘ইক্কা’ মুক্তির মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ভিউ অর্জন করে প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ ১০ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

তবে দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও।‘মহারাজ’-এর সাফল্যের পর পরিচালক সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রার নতুন এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ‘দামিনী’ সিনেমার সেই স্মরণীয় আইনজীবীর চরিত্রে সানি দেওলের প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভিলেন চরিত্রে প্রশংসিত অক্ষয় খান্নার সঙ্গে তার মুখোমুখি লড়াই—এই দুই বিষয়ই দর্শকদের আগ্রহের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

এক নজরে

  •     সিনেমা: ইক্কা (Ikka)
  •     ধরন: কোর্টরুম ড্রামা, থ্রিলার
  •     পরিচালনা: সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রা
  •   চিত্রনাট্য: আলথিয়া কৌশল ও ময়ঙ্ক তিওয়ারি
  •  অভিনয়ে: সানি দেওল, অক্ষয় খান্না, তিলোত্তমা সোম, দিয়া মির্জা, আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর ও সানজিদা শেখ
  •  মুক্তির প্ল্যাটফর্ম: নেটফ্লিক্স
  •     দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট

গল্প

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্জুন মেহরা (সানি দেওল), যিনি ‘ইক্কা’ নামে পরিচিত একজন নীতিবান আইনজীবী। আদালতে তার দক্ষতা কিংবদন্তিতুল্য হলেও তিনি একটি নীতি মেনে চলেন—শুধু নির্দোষদের পক্ষেই মামলা লড়েন।ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও শিল্পপতির ছেলে শৌর্যমান গৌর (অক্ষয় খান্না)-এর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

নৈতিক কারণে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পারিবারিক সংকটের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত শৌর্যমানের পক্ষেই দাঁড়াতে বাধ্য হন অর্জুন। এরপর শুরু হয় ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের জটিল দ্বন্দ্ব।

অভিনয়ই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি

সিনেমাটির সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক নিঃসন্দেহে অভিনয়।

সানি দেওল তার পরিচিত উচ্চকণ্ঠ ও অ্যাকশনধর্মী ইমেজ থেকে বেরিয়ে এসে সংযত, আবেগঘন এবং পরিণত অভিনয় উপহার দিয়েছেন। চরিত্রটির নৈতিক টানাপোড়েন তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে অক্ষয় খান্না আবারও প্রমাণ করেছেন, জোরালো সংলাপ নয়—চোখের ভাষা, মুখভঙ্গি ও শরীরী অভিব্যক্তিই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।

তার অভিনয় রহস্যময়, আত্মবিশ্বাসী এবং গভীর প্রভাব ফেলেছে।সরকারি কৌঁসুলির ভূমিকায় তিলোত্তমা সোমও ছিলেন যথেষ্ট দৃঢ় ও সংযত। তবে দিয়া মির্জা, সানজিদা শেখ এবং আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুরের চরিত্রগুলো খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

কোথায় দুর্বলতা?

প্রথমার্ধে টানটান উত্তেজনা, আইনি কৌশল ও রহস্য ধরে রাখতে সক্ষম হলেও বিরতির পর ছবিটি অনেকটাই গতি হারায়।

সমালোচকদের মতে, ছবির প্রধান দুর্বলতাগুলো হলো—

  •  অতিরিক্ত বলিউডি মেলোড্রামা: দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তিনির্ভর আদালতের লড়াইয়ের বদলে আবেগ, নাটকীয়তা এবং কাকতালীয় ঘটনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
  •  অসম চিত্রনাট্য: শুরুতে যে স্মার্ট কোর্টরুম থ্রিলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখা যায়নি। কয়েকটি মোড় ছিল সহজেই অনুমানযোগ্য।
  •  নায়ককেন্দ্রিক উপস্থাপনা: আইনি যুক্তি ও আদালতের লড়াইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক নাটকীয়তা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন

সানি দেওল ও অক্ষয় খান্নার তারকাখ্যাতি, নস্টালজিয়া এবং শক্তিশালী প্রচারণার জোরে ‘ইক্কা’ নেটফ্লিক্সে ১৫ দিনের মধ্যেই প্রায় ২ কোটি ভিউ অর্জন করে বড় সাফল্য পেয়েছে। তবে একটি কোর্টরুম থ্রিলার হিসেবে ছবিটি তার সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারেনি।

যারা আবেগঘন, মূলধারার বলিউডি আদালতভিত্তিক নাটক উপভোগ করেন, তাদের জন্য ‘ইক্কা’ একটি বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে যারা তীক্ষ্ণ যুক্তি, বাস্তবসম্মত আইনি লড়াই এবং বুদ্ধিদীপ্ত থ্রিলার প্রত্যাশা করেন, তাদের কাছে ছবিটি কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে।