সংসদ ভবনের স্টোর থেকেই উধাও ১৩৪৩ কপার বার! কোটি টাকার রহস্যে তোলপাড় গণপূর্ত বিভাগ।
By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬
রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর অন্যতম জাতীয় সংসদ ভবন। অথচ সেই জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকেই রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসব সরঞ্জামের মূল্য প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। ঘটনায় ইতোমধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মহলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংসদ ভবনের সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কাজটি করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইডিক্স কর্পোরেশন লিমিটেড। প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, পুরোনো কিছু কপার বার পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। আর কাজ শেষে অবশিষ্ট যেসব মালামাল স্টোরে জমা থাকার কথা, তার বড় একটি অংশের কোনো হদিস মিলছে না।
এ ঘটনায় আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। একই প্রকল্পের জন্য একাধিক সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করা হলেও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অসঙ্গতি। কোথাও তারিখ নেই, কোথাও স্বাক্ষর অনুপস্থিত, আবার কিছু নথিতে সরঞ্জামের সংখ্যা ও মূল্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একেকটি নথি যেন আরেকটি নথির অসঙ্গতি আড়াল করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সব কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিপুল অঙ্কের বিল উত্তোলন করা হয়। পরে সেই অনিয়ম চাপা দিতেই পুরোনো মালামাল গায়েব কিংবা বিক্রির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন কর্মকর্তাদের একাংশ।
এদিকে, তদন্ত শুরুর আগেই দায় চাপানো হয়েছে এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর। যদিও তিনি দাবি করেছেন, মাত্র কয়েক মাস দায়িত্বে ছিলেন এবং কখনোই প্রকল্প বা স্টোরের প্রকৃত অবস্থা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে সংসদ ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতিকেই কপার বার উধাও হওয়ার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। কেউ বলছেন মালামাল স্টোরে জমা ছিল, কেউ বলছেন কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, আবার কেউ দাবি করছেন পুরোনো মালপত্র পুনরায় ব্যবহার করায় নতুন কপার সংরক্ষণের প্রয়োজনই পড়েনি।
এ ঘটনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—সংসদ ভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ ভারী কপার বার কীভাবে সরানো সম্ভব হলো? এটি কি শুধুই চুরি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির জাল?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না। একই সঙ্গে সংসদ ভবনের স্টোররুমের সিসিটিভি ব্যবস্থা অকার্যকর থাকার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।